সাত মাস ঘুরেও ৪৬.৫০ শতাংশের বদলে খতিয়ানে সাড়ে ১০ শতাংশ!
কাউলীবেড়া ভূমি অফিসে হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ, ‘সালমার ক্ষমতার উৎস কোথায়?’

স্টাফ রিপোর্টারঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—এত অভিযোগের পরও তিনি বহাল থাকেন কীভাবে? তার ক্ষমতার উৎসই বা কোথায়?
কাউলীবেড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা সাংবাদিক ও চিকিৎসক মোঃ হাফিজুল ইসলাম তালুকদার অভিযোগ করেন, নিজের ৪৬.৫০ শতাংশ জমির নামজারি করতে গিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরেছেন। তার অভিযোগ, নামজারির জন্য তার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত ৪৬.৫০ শতাংশ জমির পরিবর্তে খতিয়ানে মাত্র সাড়ে ১০ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হাফিজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনসংক্রান্ত অডিও-ভিডিও প্রমাণ সাবেক ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়ামকে দেখাতে গেলে কিছু অপরিচিত ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে কথিত প্রমাণ মুছে দেয়।
তার দাবি, সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে উপজেলা, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভূমি অফিসে সময়মতো উপস্থিত না থাকা, সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং নামজারি করে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবির মতো অভিযোগ রয়েছে। চারাভিটা গ্রামের ইউনুস তালুকদারের জমি নিয়েও নামজারি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সালমা আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে মোবাইলে মেসেজ পাঠানো হলে তিনি মেসেজটি সিন করলেও কোনো উত্তর দেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নামজারি ও ভূমিসেবা কার্যক্রমের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক।
প্রশ্ন উঠেছে—সাধারণ মানুষের ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন, সেখানে এত অভিযোগের পরও কেন কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই?
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।