নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-যুবদল নেতা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, পেপার মিলের গেটে লাথি
চাঁদা না পেয়ে হুমকি ও ট্রাকচালকদের বাধা দেওয়ার নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-যুবদল নেতা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, পেপার মিলের গেটে লাথি; উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, তদন্ত করছে পুলিশ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-যুবদল নেতা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, পেপার মিলের গেটে লাথি
চাঁদা না পেয়ে হুমকি ও ট্রাকচালকদের বাধা দেওয়ার নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-যুবদল নেতা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, পেপার মিলের গেটে লাথি; উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, তদন্ত করছে পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার ঃ
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একটি পেপার মিলে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারখানার গেটে লাথি মারা এবং কাঁচামালবাহী ট্রাকচালকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাবিবুর রহমান ওরফে জিপু খান (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে বিএনপি বা যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বন্দর উপজেলার লক্ষণখোলা এলাকায় অবস্থিত ‘শেখ ফারাজ পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড’-এ এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাসুম শেখ, যিনি দৈনিক রুদ্রবার্তা পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বলেও জানা গেছে।
ফোন করে গেটে ডাকার পর টাকা দাবি
কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল্লাহর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন জিপু খান ফোন করে জানান, তিনি পণ্য নিয়ে এসেছেন এবং কারখানার গেটে দেখা করতে চান। পরে সাইফুল্লাহ গেটে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর কাছে জানতে চান, কার অনুমতি নিয়ে সেখানে কারখানা পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। তবে কত টাকা দাবি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ জানা যায়নি।
গেটে লাথি, গালিগালাজ ও ট্রাকচালকদের হুমকির অভিযোগ
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাইফুল্লাহ কারখানার ভেতরে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি কারখানার গেটে লাথি মারেন, গালিগালাজ করেন এবং কাঁচামাল নিয়ে আসা ট্রাকচালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে কাঁচামালবাহী ট্রাকের প্রবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এতে নিয়মিত উৎপাদন, শ্রমিকদের কাজ এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে উৎপাদন কতটা ব্যাহত হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত—তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
থানায় জিডি ও লিখিত অভিযোগ
ঘটনার পর কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল্লাহ বন্দর থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা গেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে জানান, এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তদন্তের অগ্রগতি, অভিযোগের সত্যতা এবং এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট থানা থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাবিবুর রহমান ওরফে জিপু খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি
স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষ।
দৈনিক রুদ্র খবরের পক্ষ থেকে স্পষ্টীকরণ: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না। অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।