লাইভমক্কা লাইভ
দৈনিক রুদ্রখবর

ক্রাইম

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন হচ্ছে: আইজিপি

ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছাড়াই মামলা করতে পারবে পুলিশ, ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ

দৈনিক রুদ্র খবরদৈনিক রুদ্র খবররবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:২৬ AM
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন হচ্ছে: আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রুদ্র খবর

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬: দেশে চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে ভুক্তভোগীর সরাসরি অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলা করতে পারবে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রমাণসহ নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) লাইন্সে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আইজিপি এসব কথা বলেন।

ভয়ে অভিযোগ করেন না ভুক্তভোগীরা

আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সন্ত্রাসী চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকে। ফলে ভুক্তভোগীরা ভয়ের কারণে থানায় অভিযোগ করতে চান না। এমনকি অনেকেই আদালতে সাক্ষ্য দিতেও সাহস পান না। এ পরিস্থিতিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, চাঁদাবাজি প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে পুলিশ যাতে নিজ উদ্যোগে মামলা করতে এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে, সে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি দেখা যেতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও অভিযান

আইজিপি জানান, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে পুলিশ।

তিনি বলেন, পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকেও পুলিশের একটি শাখার আওতায় আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

জনআস্থা ফেরাতে চায় পুলিশ

পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি। তাঁর মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কেউ কেউ পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা ও আইনি উদ্যোগ প্রয়োজন।

আইজিপি সাধারণ মানুষকে অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।

নতুন আইন নিয়ে প্রত্যাশা

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ দমনে কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ, নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত আইন বাস্তবায়িত হলে ভয়ে অভিযোগ করতে না পারা ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে অপরাধ তদন্তের সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে নতুন আইনটি এখনো প্রণয়নের উদ্যোগ পর্যায়ে রয়েছে। এর চূড়ান্ত বিধান, কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নপদ্ধতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিস্তারিত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

দৈনিক রুদ্র খবর চাঁদাবাজি প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে পাঠকদের নিয়মিত তথ্য জানাবে।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

একটি মন্তব্য লিখুন