রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, আয়াসসহ চারজন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার
ঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০২৬: রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলার চেষ্টার ঘটনায় রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০২৬: রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলার চেষ্টার ঘটনায় রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস (২৯), মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭)।
শনিবারের ঘটনায় আটক
পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার চেষ্টা করেন আয়াসসহ কয়েকজন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে শাহবাগ থানা-পুলিশ।
মামলায় যেসব অভিযোগ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহবাগ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। এতে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, প্রতিকৃতি নষ্ট বা বিকৃত করার চেষ্টা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ধর্মীয় সম্প্রীতিতে আঘাতের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলায় দণ্ডবিধির ১২০খ, ১৫৩ক ও ২৯৫ক ধারার উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে অভিযুক্তদের দায় নির্ধারিত হবে।
কেন আঁকা হয়েছিল গ্রাফিতি?
গত ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর দেয়ালে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়সহ আরও কয়েকজন।
ঘটনাটি ঘিরে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জনপরিসরে শিল্পকর্মের ব্যবহার এবং মতপ্রকাশের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া চলমান
পুলিশের পক্ষ থেকে চারজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালত। মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।
দৈনিক রুদ্র খবর—সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।