লাইভমক্কা লাইভ
দৈনিক রুদ্রখবর

অর্থনীতি

বেতন ফিক্সেশন ও ভেরিফিকেশনে ঘুষ দাবির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন ফিক্সেশন ও ভেরিফিকেশন কার্যক্রমে ঘুষ দাবি এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বেতন নির্ধারণ ও তথ্য যাচাইয়ের নামে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের কেউ কেউ।

দৈনিক রুদ্র খবরদৈনিক রুদ্র খবরশনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৪:০৭ AM
বেতন ফিক্সেশন ও ভেরিফিকেশনে ঘুষ দাবির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

বেতন ফিক্সেশন ও ভেরিফিকেশনে ঘুষ দাবির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রুদ্র খবর

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন ফিক্সেশন ও ভেরিফিকেশন কার্যক্রমে ঘুষ দাবি এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বেতন নির্ধারণ ও তথ্য যাচাইয়ের নামে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের কেউ কেউ। এ পরিস্থিতিতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং হয়রানি বন্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি

সংগঠনটির সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে কোনো ধরনের আর্থিক হয়রানি কিংবা অনৈতিক লেনদেন ছাড়াই তাঁদের বেতন ফিক্সেশন ও ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বেতন নির্ধারণ ও তথ্য যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নির্ধারিত নিয়মের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো কর্মচারীকে বেতন-সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে অবৈধ অর্থ দিতে বাধ্য করা হলে, সেই অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এজি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নজরদারির দাবি

২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের এক প্রতিবেদনে এজি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পে-ফিকেশন ও ভেরিফিকেশন কার্যক্রম ঘিরে ঘুষ দাবি এবং হয়রানির অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল কিংবা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।

অভিযোগ জানাতে পারেন সরকারি কর্মচারীরা

সরকারি দপ্তরে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিধিবহির্ভূত অর্থ দাবি, অযৌক্তিক বিলম্ব কিংবা হয়রানির শিকার হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রমাণসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার ওয়েবসাইট "grs.gov.bd" (https://grs.gov.bd/)-এর মাধ্যমেও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিযোগ দাখিল করা যায়।

অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার তারিখ, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, অর্থ দাবির বিবরণ এবং প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে প্রচার না করে যথাযথ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে কার্যকর নজরদারি, অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বেতন ফিক্সেশন ও ভেরিফিকেশনের নামে অনিয়মের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন দেখার বিষয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ এবং বেতন নির্ধারণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

একটি মন্তব্য লিখুন