ফরিদপুরে পদ্মার ভাঙনে বিলীন কবিরপুরের ৮ কোটি টাকার সেতু
মাত্র ছয় বছরেই নদীগর্ভে সেতু, যাতায়াত বন্ধ দুই জেলার অন্তত দুই হাজার মানুষের

ফরিদপুরে পদ্মার ভাঙনে বিলীন কবিরপুরের ৮ কোটি টাকার সেতু
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মিত একটি সেতু। প্রায় ৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের মাত্র ছয় বছরের মাথায় ধসে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেতুটি ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর এলাকায় অবস্থিত। পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের ফলে সেতুটি ধীরে ধীরে দেবে গিয়ে একপর্যায়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
দুই জেলার মানুষের দুর্ভোগ
সেতুটি ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কয়েকটি চরাঞ্চলের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। সেতুটি দিয়ে অন্তত দুই হাজার মানুষ চলাচল করতেন। এটি ভেঙে পড়ায় দুই জেলার বাসিন্দাদের যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা, তবু রক্ষা হয়নি সেতু
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাঙন শুরু হওয়ার পর সেতুটি রক্ষায় প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় বালুভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছিল। তবে ভাঙন প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় সেতুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় গত প্রায় ৩৫ বছরের মধ্যে এমন তীব্র নদীভাঙন দেখা যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে, পদ্মার দুই ধারেই ভাঙন চলছে। নদীভাঙনের কারণে নদীর প্রবাহ ও তীরবর্তী ভূমির অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। পানি কমে গেলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।
নির্মাণব্যয় ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন
প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু মাত্র ছয় বছরের মাথায় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় নদীভাঙন মোকাবিলায় পরিকল্পনা, সেতুর অবস্থান নির্বাচন এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সেতুটি নির্মাণে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি ছিল কি না, তা নির্ধারণে প্রকৌশলগত তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যতে টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
দৈনিক রুদ্র খবরের পক্ষ থেকে এ ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।