বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু: দীপের দেওয়া তথ্য ঘিরে নতুন মোড়, যাচাই করছে পিবিআই
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় দীপ নামে এক ব্যক্তির দেওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু: দীপের দেওয়া তথ্য ঘিরে নতুন মোড়, যাচাই করছে পিবিআই
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রুদ্র খবর
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় দীপ নামে এক ব্যক্তির দেওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তদন্তের অংশ হিসেবে দীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। এ সময় দীপ তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
দীপের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি দল তাঁদের ধাওয়া করেছিল। একপর্যায়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে দীপ নিজে সীমানা পিলারের আড়ালে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানান। তবে তাঁর এসব বক্তব্যের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পিবিআই বিষয়গুলো যাচাই করছে।
উদ্ধার হয়েছে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল
তদন্তে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে নিখোঁজ মোটরসাইকেলকে ঘিরে। তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই চলছে।
যেভাবে নিখোঁজ হন তাহসিফ
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দীপের ডাকে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ।
রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে তিনি বাসায় ফেরার কথা জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। কিন্তু এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে
তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে কী ঘটেছিল, তা জানতে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে রয়েছে—দীপের দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা, ঘটনার সময় কথিত ধাওয়ার প্রকৃত পরিচয়, নিখোঁজ মোটরসাইকেলের অবস্থান এবং তাহসিফ কী পরিস্থিতিতে তুরাগ নদে পড়েছিলেন।
এ ছাড়া ঘটনার আগে ও পরের যোগাযোগ, চলাচল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের অপেক্ষায় পরিবার
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। তবে কোনো বক্তব্য বা উদ্ধার হওয়া আলামতকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে যথাযথ তদন্ত ও ফরেনসিক যাচাই প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রত্যাশা, পিবিআই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করবে এবং ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
দৈনিক রুদ্র খবরের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা—তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত হোক নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণনির্ভর। সত্য প্রকাশিত হোক, নিশ্চিত হোক ন্যায়বিচার।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।