লিফটের ফাঁকা জায়গায় এডিসের লার্ভা!১০ জন আক্রান্ত একই বিল্ডিংগে, নারায়ণগঞ্জজেলার বাংলাবাজার আবাসিক ভবনে ডেঙ্গুর আতঙ্ক, নজরদারি কোথায়?
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কাশীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভবনের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পানি জমে থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কাশীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভবনের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পানি জমে থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, ওই ভবনে বসবাসকারী প্রায় ১০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েকদিন আগে ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া রিপন মুন্সী ডেঙ্গুতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্বিতীয় তলার হারুন ভাড়াটিয়ার দুই সন্তান (আহানাফ ও আবিদ) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা চিকিৎসক মো. হাফিজুল ইসলাম তালুকদার, তার স্ত্রী সাদিয়া আক্তার প্রীতি এবং সন্তান সাফওয়ান এবং তার তার মা জুলেখা বেগম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়েছিলেন বলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, লিফটের ফাঁকা জায়গাটি আগে টিন দিয়ে ঢাকা থাকায় ভেতরের অবস্থা সহজে চোখে পড়ত না। পরে টিন সরানোর পর জমে থাকা পানি ও লার্ভার বিষয়টি তাদের নজরে আসে।
ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, বারবার জানিয়েও সমাধান হয়নি
ভবনের একাধিক ভাড়াটিয়া জানান, তারা সম্মিলিতভাবে ভবন কর্তৃপক্ষের কাছে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল পরিষ্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার পরিবর্তে সমস্যা হলে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে চলতি বছরও ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
দ্রুত ব্যবস্থা চান বাসিন্দারা
ভবনের বাসিন্দাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও মশক নিধন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পুরো ভবনে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করুক।
তাদের প্রশ্ন—একটি আবাসিক ভবনে একের পর এক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পরও যদি এডিসের লার্ভার সম্ভাব্য উৎস খোলা অবস্থায় থাকে, তাহলে আরও কতজন আক্রান্ত হওয়ার পর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।