লাইভমক্কা লাইভ
দৈনিক রুদ্রখবর

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পাঁচ বছর পর ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন—দাবির সত্যতা ও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

ভারতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিকাশে ন্যানো ইউরিয়া গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ন্যানো প্রযুক্তিনির্ভর এই সার উৎপাদন ও ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচলিত রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পাঁচ বছর পর ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

দৈনিক রুদ্র খবরদৈনিক রুদ্র খবররবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:২৫ PM
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পাঁচ বছর পর ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন—দাবির সত্যতা ও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রুদ্র খবর

ভারতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিকাশে ন্যানো ইউরিয়া গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ন্যানো প্রযুক্তিনির্ভর এই সার উৎপাদন ও ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচলিত রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পাঁচ বছর পর ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

ভারতের কৃষি সমবায় প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ফারমার্স ফার্টিলাইজার কো-অপারেটিভ লিমিটেড (IFFCO) ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবন ও উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘Nano Urea Fertilizer and its Manufacturing Method’ উদ্ভাবনের জন্য ২০ বছরের পেটেন্ট দেওয়া হয়েছে, যার মেয়াদ গণনা শুরু হয়েছে ১২ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে।

অন্যদিকে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত সংবাদেও IFFCO-র ন্যানো ইউরিয়া ও ন্যানো ডিএপি প্রযুক্তির জন্য ২০ বছরের পেটেন্ট পাওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল। ফলে পেটেন্ট অনুমোদনের সময়কাল ও পাঁচ বছর পর অনুমোদনের দাবিটি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ন্যানো ইউরিয়া কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ন্যানো ইউরিয়া হলো ন্যানো প্রযুক্তিনির্ভর তরল নাইট্রোজেন সার। প্রচলিত ইউরিয়ার তুলনায় এটি অল্প পরিমাণে ব্যবহারযোগ্য এবং সাধারণত গাছের পাতায় স্প্রে করে প্রয়োগ করা হয়। এর লক্ষ্য হলো সারের কার্যকারিতা বাড়ানো, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করা এবং পরিবহন ও সংরক্ষণের চাপ হ্রাস করা।

ভারতের রাসায়নিক ও সার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হওয়ার পর দেশটিতে এর উৎপাদন ও বিতরণ সম্প্রসারিত হয়েছে।

কৃষকদের জন্য কী বার্তা?

ভারতের কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR) ও বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রচলিত ইউরিয়ার সুপারিশকৃত প্রাথমিক প্রয়োগের সঙ্গে ন্যানো ইউরিয়া স্প্রে ব্যবহারের ফলাফল মূল্যায়ন করা হয়েছে। কিছু পরীক্ষায় প্রচলিত ইউরিয়ার ব্যবহার কমানোর সম্ভাবনা দেখা গেলেও ফসলভেদে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।

তাই ন্যানো ইউরিয়াকে প্রচলিত ইউরিয়ার সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার আগে ফসলভিত্তিক গবেষণা, অনুমোদিত প্রয়োগবিধি এবং কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসরণ করা জরুরি।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ন্যানো সার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে গবেষণার ফলাফল, পণ্যের গুণগত মান, কৃষকের সচেতনতা এবং সঠিক প্রয়োগবিধির ওপর।

দৈনিক রুদ্র খবরের পর্যবেক্ষণ: ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট, সরকারি অনুমোদন এবং উৎপাদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পৃথক বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পাঁচ বছর পর পেটেন্ট অনুমোদনের দাবিটি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রয়োজন।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

একটি মন্তব্য লিখুন