ভৈরবে সরকারি রাস্তা বন্ধ করে চলাচলে বাধা, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত সরকারি রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি, চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, ভাঙচুর ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।

ভৈরবে সরকারি রাস্তা বন্ধ করে চলাচলে বাধা, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রুদ্র খবর
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত সরকারি রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি, চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, ভাঙচুর ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরকারি রাস্তা অবমুক্ত করা, এলাকাবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ডা. ফাহিমা শারমিন হানি।
লিখিত অভিযোগে ডা. ফাহিমা শারমিন জানান, তাঁর পিতা মোহাম্মদ শফি উদ্দিন সংশ্লিষ্ট জমি ক্রয় করার পর দুটি বাড়ির সংযোগস্থল দিয়ে ভৈরব পৌরসভা একটি রাস্তা নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নআয়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
অভিযোগে রোকেয়া বেগম, তাঁর ছেলে লাভলু রানা ও পুত্রবধূ মাহমুদার বিরুদ্ধে রাস্তা দিয়ে চলাচলে বাধা, স্থানীয়দের সঙ্গে অসদাচরণ ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাস্তা দিয়ে চলাচলে টাকা দাবির অভিযোগ
আবেদনে বলা হয়েছে, রাস্তা দিয়ে চলাচলের জন্য রোকেয়া বেগম টাকা দাবি করেছেন। পাশাপাশি মোহাম্মদ শফি উদ্দিনের বাড়ির ভেতর দিয়ে তাঁদের ইচ্ছামতো যাতায়াতের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে পরিবারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, অতীতেও বাড়ির ভেতর দিয়ে যাতায়াতের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ওই সময়ে বাড়ির ভাড়াটিয়াদের মোবাইল ফোন, টাকা, স্বর্ণালংকার ও পানির কল চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাড়ির বাইরে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ
সর্বশেষ গত তিন দিন ধরে ডা. ফাহিমা শারমিনের বাড়ির বাইরে তালা লাগিয়ে তাঁদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাড়ির তালা খুলতে গেলে আমেনা বেগমকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া রাস্তার পানি ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাভলু রানা স্থানীয় এক শিক্ষা কর্মকর্তার বাড়ির সিঁড়ি ভাঙচুর এবং গেটের ওপর লাঠি দিয়ে আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই মাস আগে অভিযুক্ত পরিবারের আরেক সদস্য রানা এক ভিক্ষুককে লাঠি দিয়ে মারধর করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার কারণে তাঁর পরিবারসহ আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে এলাকার সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচলে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
আবেদনে পৌরসভা নির্মিত রাস্তার সীমানা ও মালিকানা সরেজমিনে যাচাই, রাস্তার ওপর কোনো অবৈধ প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা অপসারণ, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
অভিযোগের সমর্থনে আবেদনে ১০ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নাসরিন সুলতানা, মো. জসিম উদ্দিন, হুমায়রা বেগম, মো. রাহাত, মো. নাদিম মিয়া, মো. নাঈম (ছোটন), নুসরাত লিরা, ইসমাইল আল রাজিব ও আমেনা বেগমসহ স্থানীয় কয়েকজনের নাম রয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগটির বিষয়ে তিনি অবগত নন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. লাভলু রানার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা এবং সরকারি রাস্তার প্রকৃত অবস্থান ও মালিকানা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দৈনিক রুদ্র খবরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি—সরকারি রাস্তার সীমানা ও মালিকানা যাচাই করে জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা হোক এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।