ভারতীয়দের নিয়ে ইহুদি ধর্মপ্রচারকের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা
ভারতীয়দের ধর্মীয় বিশ্বাস ও হিন্দু সম্প্রদায়ের গরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি-আমেরিকান ইহুদি ধর্মপ্রচারক রাব্বি ইয়োসেফ (ইয়োসি) মিজরাহি।

ভারতীয়দের নিয়ে ইহুদি ধর্মপ্রচারকের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রুদ্র খবর
ভারতীয়দের ধর্মীয় বিশ্বাস ও হিন্দু সম্প্রদায়ের গরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি-আমেরিকান ইহুদি ধর্মপ্রচারক রাব্বি ইয়োসেফ (ইয়োসি) মিজরাহি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রচারিত একটি ধর্মীয় বক্তব্যে মিজরাহি ভারতের হিন্দু সম্প্রদায়ের গরুর প্রতি ধর্মীয় শ্রদ্ধা নিয়ে বিদ্রূপ করেন। তিনি দাবি করেন, কিছু ভারতীয় গরুর মূত্র পান করেন এবং মেঝেতে পড়ে থাকা গোমূত্র চেটে খান। এমনকি কিছু চিকিৎসকও এ ধরনের কাজ করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতীয়দের নিয়ে উপহাস করে নিজের সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলেও ভিডিওতে শোনা যায়। তাঁর এসব মন্তব্যকে অনেকেই ধর্মীয় অবমাননা, বর্ণবাদী আচরণ ও একটি দেশের মানুষের প্রতি অসম্মানজনক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন।
ভারত ও ইসরায়েলে সমালোচনার ঝড়
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকেও সমালোচনা শুরু হয়।
ইসরায়েলি গবেষক ও লেখক ইয়েশায়া রোজেনম্যান মিজরাহির বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে।
এদিকে ভারতে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এম আবু শাওয়েশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো ধর্ম বা বিশ্বাসকে উপহাস করা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যকে অপমান করা মানবতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
আগেও বিতর্কে জড়িয়েছেন এই ধর্মপ্রচারক
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিজরাহির বিরুদ্ধে এর আগেও বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে হলোকাস্টের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তাঁর ২০১৫ সালের মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরে ওই বক্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমা চান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বে বিভিন্ন ধর্ম, জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এ বক্তব্যের বিষয়ে মিজরাহি বা তাঁর প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
দৈনিক রুদ্র খবর — সত্যের পথে, মানুষের পাশে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।