দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হবে ওয়াই-আকৃতির, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নয়নে গুরুত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রুদ্র খবর
দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই-আকৃতিতে নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতুর মাধ্যমে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বৈঠকে সেতুটির সম্ভাব্য ওয়াই-আকৃতির নকশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে সেতুর চূড়ান্ত অবস্থান, নকশা ও নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর।
দ্বিতীয় যমুনা সেতুতে গুরুত্ব পাচ্ছে উত্তরাঞ্চল
দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নতুন সেতু নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণেও আলোচনা
বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষিকাজে পানির সরবরাহ বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার আশা
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির সম্ভাব্য নির্মাণস্থান, নকশা ও ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অর্থায়নের উৎস, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উন্নত যোগাযোগ ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এসব বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা, পরিবেশগত সমীক্ষা, স্বচ্ছ অর্থায়ন এবং সময়োপযোগী কার্যক্রম।
দৈনিক রুদ্র খবর — সত্যের পথে, মানুষের পাশে।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।