চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ধূমপান ও অপরিচ্ছন্নতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান:
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে বিশ্ব ধূমপান ও মাদকমুক্ত পরিষদের পক্ষে যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের অভিনন্দন

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রুদ্র খবর
ঢাকা: হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ধূমপান এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব ধূমপান ও মাদকমুক্ত পরিষদ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশ এবং ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের সময় চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান ও অপরিচ্ছন্নতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংগঠনটি।
তবে ঘটনার বিস্তারিত ও প্রশাসনিক নির্দেশের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত
বিশ্ব ধূমপান ও মাদকমুক্ত পরিষদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ হাফিজুল ইসলাম তালুকদার সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসক, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি—সবারই নিজ নিজ কর্মস্থলে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ধূমপান রোগী, শিশু, রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল মানুষের সুস্থতা ও সেবার আশ্রয়স্থল। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার আচরণে স্বাস্থ্যসচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাগত দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সব কর্মক্ষেত্রে ধূমপানমুক্ত পরিবেশের আহ্বান
মোঃ হাফিজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ধূমপান ও মাদকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে প্রচারের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমস্থলে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করলে তরুণদের ধূমপান ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজন সচেতনতা ও জবাবদিহি
বিশ্ব ধূমপান ও মাদকমুক্ত পরিষদের মতে, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; আশপাশের মানুষও এর বিরূপ প্রভাবের শিকার হতে পারেন।
অন্যদিকে মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাই ধূমপান ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ পরিবেশ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব কর্মক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধূমপানবিরোধী বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সুস্থ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়
সংগঠনটি মনে করে, একটি সুস্থ জাতি গঠনে সরকার, প্রশাসন, চিকিৎসক সমাজ, শিক্ষকমণ্ডলী, অভিভাবক, গণমাধ্যম, তরুণ প্রজন্ম ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
এছাড়াও তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ধূমপান ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশদূষণ কমানো এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বার্তা একটাই—নিজে সুস্থ থাকুন, অন্যকে সুস্থ থাকতে দিন। ধূমপান ও মাদককে না বলুন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলুন।
দৈনিক রুদ্র খবর
সত্য তথ্য ও বলিষ্ঠ কণ্ঠে চলবে অবিরাম।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।