এসিল্যান্ডের নির্দেশেই ঘুষ নিয়েছি, তাকেও গ্রেপ্তার করুন’—দুদকের জালে সার্ভেয়ার, ৮০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ
রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেল ভূমি কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদ অভিযানে এক লাখ টাকাসহ হাতেনাতে আটক হয়েছেন সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম। তবে আটকের পর তাঁর দেওয়া এক বক্তব্যে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশেই তিনি ঘুষের টাকা গ্রহণ করেছেন।

‘এসিল্যান্ডের নির্দেশেই ঘুষ নিয়েছি, তাকেও গ্রেপ্তার করুন’—দুদকের জালে সার্ভেয়ার, ৮০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রুদ্র খবর
রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেল ভূমি কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদ অভিযানে এক লাখ টাকাসহ হাতেনাতে আটক হয়েছেন সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম। তবে আটকের পর তাঁর দেওয়া এক বক্তব্যে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশেই তিনি ঘুষের টাকা গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আটকের পর দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলাম বলেন, “এসিল্যান্ডের নির্দেশেই ঘুষ নিয়েছি, তাকেও গ্রেপ্তার করুন।” তাঁর এমন বক্তব্যে ভূমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর এই দাবির সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ
দুদক সূত্রে জানা যায়, লালবাগ থানাধীন চর-কামরাঙ্গী মৌজায় অবস্থিত ২৮২ শতাংশ জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি পৃথকীকরণ এবং জমির নকশা প্রস্তুতের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. মনিরুল ইসলাম।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদন করার পর প্রায় ছয় মাস ধরে সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি তিনি। একপর্যায়ে সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারির কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁর কাছে এককালীন ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন মনিরুল ইসলাম।
দুদকের ফাঁদে এক লাখ টাকাসহ আটক
ঘুষ দাবির ঘটনায় ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল ফাঁদ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলাম যখন মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে দাবিকৃত ঘুষের প্রথম কিস্তি হিসেবে এক লাখ টাকা গ্রহণ করছিলেন, তখনই দুদকের অভিযানকারী দল তাঁকে হাতেনাতে আটক করে।
এসিল্যান্ডের নাম জড়িয়ে নতুন প্রশ্ন
আটকের পর সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামের বক্তব্যে এসিল্যান্ড মো. আমিনুল ইসলামের নাম উঠে আসায় পুরো ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সার্ভেয়ারের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা ও সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেই তিনি ঘুষের টাকা গ্রহণ করেছেন।
তবে একজন আটক ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে এসিল্যান্ড মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কারাগারে সার্ভেয়ার, তদন্তের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা
দুদকের দায়ের করা মামলার পর সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, ঘুষ দাবির অভিযোগ, অর্থ গ্রহণের পেছনের সম্ভাব্য যোগসাজশ এবং সার্ভেয়ারের বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভূমি অফিসে দুর্নীতি বন্ধের দাবি
ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি, ঘুষ ও অনিয়মের শিকার না হন—এমন প্রত্যাশা সচেতন নাগরিকদের। তাঁদের মতে, একজন সার্ভেয়ার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আটক হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
কেউ ব্যক্তিগতভাবে ঘুষ গ্রহণ করে থাকলে কিংবা কোনো কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে, তদন্তে প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
দৈনিক রুদ্র খবরের অনুসন্ধানী দৃষ্টি: জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারির মতো নাগরিক সেবায় ঘুষের অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ২৮২ শতাংশ জমির এই ঘটনায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা গ্রহণের সময় সার্ভেয়ারের আটক এবং এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য—প্রতিটি বিষয় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে সচেতন মহল।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।