আমজনতার তারেককে জাপান সফরে নেওয়া নিয়ে সমালোচনা, মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী
সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই বড় সংস্কার—টোকিওতে প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তারেক রহমান

আমজনতার তারেককে জাপান সফরে নেওয়া নিয়ে সমালোচনা, মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী
সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই বড় সংস্কার—টোকিওতে প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তারেক রহমান
দৈনিক রুদ্র খবর | নিজস্ব প্রতিবেদক
জাপান সফরে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে সফরসঙ্গী করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসঙ্গী তারেকের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তাঁকে সঙ্গে নেওয়ায় সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে—এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে জাপানের রাজধানী টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটিতে প্রবাসীরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে নানা প্রশ্ন করেন।
‘দেশে অনেক সমস্যা আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা দেখি না’
আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে জাপান সফরে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য করা হচ্ছে। তাঁর কোনো অবদান নেই কিংবা তাঁকে সঙ্গে নিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে—এমন সমালোচনাও সামনে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান ও জীবিকার নানা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে একজন ব্যক্তিকে ঘিরে সমালোচনা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, দেশের প্রকৃত সমস্যা ও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখা জরুরি।
‘খেটে খাওয়া মানুষের জীবন উন্নত করাও বড় সংস্কার’
সংস্কারের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কার কেবল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে নীতিগত পরিবর্তন আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মেহনতি ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাও বড় ধরনের সংস্কার।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদেরা ভোটের জন্য মানুষের কাছে যান। তাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে কিছুটা সহজ, স্বস্তিদায়ক ও উন্নত করা।
প্রথম বিদেশ সফরে আমজনতার তারেক
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপান সফরে যাওয়ার আগে আমজনতা পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এটি তাঁর জীবনের প্রথম বিদেশ সফর। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
তাঁকে সফরসঙ্গী করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে টোকিওতে প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রবাসীদের প্রতি বিনিয়োগে সহযোগিতার আহ্বান
একই মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা জাপানি ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের কাছে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরলে দেশে নতুন শিল্পকারখানা, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা, খাদ্যনিরাপত্তা ও বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দৈনিক রুদ্র খবরের পর্যবেক্ষণ: সফরসঙ্গী নির্বাচন ও সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে জনপরিসরে প্রশ্ন উঠলে তার জবাব তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকর আলোচনা এবং বাস্তব অগ্রগতি জনস্বার্থে আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।