লাইভমক্কা লাইভ
দৈনিক রুদ্রখবর

লাইফস্টাইল

মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

৪ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু: সাবেক এমপি হাবিব হাসানসহ ১৮ আসামি পলাতক

এম এইচ তালুকদারএম এইচ তালুকদাররবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১:৩২ PM
মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

স্টাফ রিপোর্টারঃ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

২৬ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার ৮, পলাতক ১৮

মামলায় অভিযুক্ত ২৬ জনের মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৮ জন পলাতক বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আহতদের হাসপাতালে নিতে সহায়তা করছিলেন মুগ্ধ। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই উত্তরায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে একটি সাঁজোয়া যানবাহনের চাকায় পিষ্ট করে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই উত্তরায় রিদোয়ান শরীফ, ছাব্বির ইসলাম, আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি পরিচালিত হচ্ছে।

বিচারপ্রক্রিয়ায় এখন কী হবে?

অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আদালত মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর পথ এগিয়ে নিয়েছেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা। সাক্ষ্য, জেরা এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী বিচারিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দৈনিক রুদ্র খবরের পর্যবেক্ষণ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়া এবং আদালতের প্রক্রিয়ায় দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযোগ গঠন মানেই আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; বিচার শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমেই দোষী বা নির্দোষ নির্ধারিত হবে।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

একটি মন্তব্য লিখুন