লাইভমক্কা লাইভ
দৈনিক রুদ্রখবর

বিনোদন

হাসি, ব্যঙ্গ আর সমাজসচেতনতার অনন্য কারিগর হানিফ সংকেতের জন্মদিন আজ

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে অমলিন এক নাম

এম এইচ তালুকদারএম এইচ তালুকদারশুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১:৩০ PM
হাসি, ব্যঙ্গ আর সমাজসচেতনতার অনন্য কারিগর হানিফ সংকেতের জন্মদিন আজ

দৈনিক রুদ্র খবর | বিনোদন ডেস্ক

বাংলাদেশের টেলিভিশন অঙ্গনের জনপ্রিয় উপস্থাপক, লেখক, পরিচালক ও প্রযোজক হানিফ সংকেতের জন্মদিন আজ ২৩ অক্টোবর। ১৯৫৮ সালের এই দিনে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সেই হিসাবে আজ তাঁর ৬৮তম জন্মদিন। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিজস্ব উপস্থাপনা, ব্যতিক্রমী রসবোধ এবং সমাজসচেতনতামূলক সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন কোটি দর্শকের হৃদয়ে।

শুধু বিনোদন নয়, ‘ইত্যাদি’ যেন সমাজের দর্পণ

বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসে হানিফ সংকেতের অন্যতম বড় পরিচয় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। ১৯৮৯ সালে যাত্রা শুরু করা অনুষ্ঠানটির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনার সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। সময়ের পরিবর্তন, প্রজন্মের রুচি এবং বিনোদনের নানা মাধ্যমের বিস্তার সত্ত্বেও ‘ইত্যাদি’ দর্শকদের কাছে স্বতন্ত্র আবেদন ধরে রেখেছে"।

হানিফ সংকেতের উপস্থাপনার বিশেষত্ব হলো—হাসির ছলে সমাজের অসংগতি তুলে ধরা। দুর্নীতি, অনিয়ম, কুসংস্কার, ভণ্ডামি কিংবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা অসংগতিকে তিনি ব্যঙ্গ ও রসবোধের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেন। ফলে দর্শক যেমন আনন্দ পান, তেমনি নিজের সমাজ ও চারপাশের বাস্তবতা নিয়েও ভাবার সুযোগ পান।

প্রজন্মের পর প্রজন্মের আবেগের নাম

অনেক পরিবারের কাছে ‘ইত্যাদি’ কেবল একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নয়; এটি একসঙ্গে বসে টেলিভিশন দেখার স্মৃতি, পারিবারিক আনন্দ এবং শৈশব-কৈশোরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক পরিচিত অধ্যায়। পুরোনো দর্শকদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছেও হানিফ সংকেতের কাজের আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

অনুষ্ঠানটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সাধারণ মানুষের অসাধারণ সব গল্প তুলে ধরা। সমাজের আড়ালে থাকা প্রতিভাবান মানুষ এবং মানবিক উদ্যোগকে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও ‘ইত্যাদি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

উপস্থাপনার বাইরেও রয়েছে বহুমুখী সৃজনশীলতা

হানিফ সংকেত শুধু উপস্থাপক নন; তিনি লেখক, নাট্যনির্মাতা, প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর রম্যরচনা ও ব্যঙ্গাত্মক লেখায় সমাজের নানা বাস্তবতা উঠে এসেছে। এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি বিনোদনকে সচেতনতা ও চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে সমৃদ্ধ কর্মজীবন

সংস্কৃতি ও সমাজসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এ ছাড়া ২০১৪ সালে জাতীয় পরিবেশ পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০২৬ সালেও তাঁর কর্মজীবন নতুন স্বীকৃতিতে সমৃদ্ধ হয়েছে—সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬-এ ভূষিত হয়েছেন।

জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

জনপ্রিয়তা অর্জন করা এক বিষয়, আর দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ধরে রাখা আরেক বিষয়। হানিফ সংকেতের দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলাদেশের টেলিভিশন বিনোদনে সেই ধারাবাহিকতারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

জন্মদিনে দৈনিক রুদ্র খবর পরিবারের পক্ষ থেকে এই গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সৃজনশীল কর্মময় জীবনের ধারাবাহিকতা কামনা করছি।

শুভ জন্মদিন, হানিফ সংকেত।

আপনার সৃষ্টির হাসি ছড়িয়ে পড়ুক আরও বহু বছর। ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি মানবিকতা, সচেতনতা ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে যাক আগামী প্রজন্মের কাছেও।

দৈনিক রুদ্র খবর — সত্য তথ্য ও বলিষ্ঠ কণ্ঠে চলবে অবিরাম।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

একটি মন্তব্য লিখুন