অর্থ-খ্যাতির আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সমু চৌধুরী, পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
দীর্ঘ অভিনয়জীবন, শত শত নাটক ও চলচ্চিত্রে অবদান—আজ তাঁর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রশ্নে উদ্বিগ্ন ভক্তরা

বিনোদন প্রতিবেদক | দৈনিক রুদ্র খবর
একসময় টেলিভিশন নাটক ও বাংলা চলচ্চিত্রে পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেতা সমু চৌধুরী। পর্দায় কখনো খলনায়কের চরিত্রে, কখনো পরিবারের বড় ভাই কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। সালমান শাহসহ নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের সময়কার শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর অভিনয়জীবনের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। অথচ সেই পরিচিত অভিনেতাকে ঘিরে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অভিনেতার বর্তমান পরিস্থিতি সামনে এনে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—দীর্ঘদিন শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান রাখা একজন মানুষ জীবনের কঠিন সময়ে কতটা নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন?
মঞ্চ থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে
সমু চৌধুরী বাংলাদেশের মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পরিচিত অভিনেতা। বাংলা মুভি ডেটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালের ২২ মার্চ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মাধ্যমে তাঁর টেলিভিশন অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয়। পরে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে পাঁচ শতাধিক নাটক এবং প্রায় এক ডজন চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘দোলন চাঁপা’, ‘শত জনমের প্রেম’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদী’, ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’ ও ‘সুন্দরী বধূ’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে তাঁর অভিনয় আজও স্মৃতির অংশ। সময়ের পরিবর্তনে অভিনয়ের সুযোগ ও ব্যক্তিজীবনের নানা পরিস্থিতি একজন শিল্পীর জীবনকে কতটা বদলে দিতে পারে, তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্য ঘিরে উদ্বেগ
সম্প্রতি সমু চৌধুরীকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনিয়মিত ও অসংলগ্ন জীবনযাপনের মধ্যে দেখা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর যশোরে নিজের বাড়ির সামনে হামলার শিকার হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় তাঁর মাথায় আঘাত লাগে এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
২১ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে তাঁর অবস্থান ও শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা উঠে আসে। পরদিন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমু চৌধুরীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও বিভিন্ন বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে চিকিৎসকের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন ছাড়া কোনো মানসিক রোগের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। প্রয়োজন তাঁর প্রতি সহমর্মিতা, যথাযথ চিকিৎসা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
অর্থ নয়, মানুষের পাশে মানুষই হোক
একজন অভিনেতার জীবনের মূল্য কেবল তাঁর জনপ্রিয়তা, অর্থ কিংবা কর্মব্যস্ততা দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। জীবনের কঠিন সময়ে একজন শিল্পীর পাশে দাঁড়ানো পরিবার, সহকর্মী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
সমু চৌধুরীর বর্তমান আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না গেলেও তাঁর নিরাপত্তা, সুস্থতা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী সংগঠন, সংস্কৃতিজগতের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান—তাঁর প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই করে পাশে দাঁড়ান। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আশ্রয় এবং তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিন।
একজন শিল্পীর জীবনের কঠিন সময় যেন তাঁকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না দেয়। তাঁর অতীতের অবদানকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানের প্রয়োজনেও পাশে দাঁড়ানো হোক।
সমু চৌধুরীর সুস্থতা, নিরাপত্তা ও সুন্দর জীবনে ফিরে আসার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।